দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইরানে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন। হোয়াইট হাউসে শুক্রবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তারা যুদ্ধের সম্ভাব্য বিস্তার এবং এর নেতিবাচক পরিণতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সিএনএনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টানা রাতের বিমান হামলার পর শুক্রবার রাতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বর্তমানে সামরিক অভিযান ‘হোল্ডে’ রয়েছে।
বৈঠকে জেনারেল ড্যান কেইন বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের মজুত কমে আসা এবং দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীর হাতে থাকা বিকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও এর পরবর্তী পরিণতিগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বৈঠকে অস্ত্রের মজুত ছাড়াও আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় আসে। এর মধ্যে ছিল, বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু হলে ইরানে ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। বৈঠকে তাকে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের হামলায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং বিদ্যুৎ ও খাদ্যসংকটে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়তে পারেন। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এমন হামলা যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নও তুলতে পারে।
এ ছাড়া সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ অবকাঠামোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশ উপদেষ্টা ট্রাম্পকে জানান, বড় ধরনের হামলা চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তবে সামরিক পদক্ষেপের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের প্রভাবও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
তবে টানা বিমান হামলা স্থগিতের পেছনে অস্ত্রের মজুত সংকট বা যুদ্ধ বিস্তারের আশঙ্কা কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময় কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরান কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা চালালে প্রয়োজনীয় সব বিকল্প তার হাতে রয়েছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং টানা ১৩ দিনের সামরিক হামলার পর ইরানের উচিত আলোচনার পথে এগিয়ে আসা, অন্যথায় পরিণতি তাদের জানা আছে।
জেনারেল কেইনের মুখপাত্র বলেন, চেয়ারম্যান প্রেসিডেন্টকে যে গোপন সামরিক পরামর্শ দেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হবে না। ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রভান্ডারের ওপর চাপ বেড়েছে।
রোববার জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক গোলাবারুদ ব্যয় হয়েছে। পাশাপাশি হুথিদের বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে দ্রুত, কম খরচে এবং আরও আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনের মাধ্যমে সেই সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজ করছে।
এদিকে ডেমোক্র্যাট নেতারা ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এ যুদ্ধ দ্রুত শেষ করা। তিনি দাবি করেন, ইরানের হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্য কোনো সংঘাত দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শুক্রবার মন্ত্রিসভার সদস্য ও শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রয়োজনে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করা হতে পারে। তার দাবি, চলমান আলোচনায় ইরান আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বড় ধরনের হামলার হুমকি দিলেও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে তার আলোচক দলকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, স্থলবাহিনী মোতায়েন না করেই সীমিত সামরিক চাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছেন তিনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল এবং পেন্টাগনের অনেক কর্মকর্তারই ধারণা, সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করলেও প্রেসিডেন্ট যে ফলাফল প্রত্যাশা করছেন, তা অর্জন করা কঠিন হতে পারে।
পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনায় সম্পূর্ণ সক্ষম। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সফল অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতাও বজায় রাখা হয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/